সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার ত্রাণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মহলে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, অর্থায়নের উৎস এবং কার্যক্রমের সমন্বয় নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, থানা পুলিশের উদ্যোগে পরিচালিত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। তাদের দাবি, দোহাজারী পৌরসভার সদর ২ নম্বর ওয়ার্ডের বারুদখানা এলাকা বন্যাকবলিত না হওয়া সত্ত্বেও সেখানে ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকাবাসীর মধ্যে এমন প্রশ্নও রয়েছে—চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস. এম. দিদারুল ইসলাম সিকদার নিজস্ব অর্থায়নে ত্রাণ বিতরণ করেছেন, নাকি অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা তাঁর উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যদি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ হয়ে থাকে, তবে কতজন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে তা পৌঁছেছে এবং এর কোনো হিসাব সংরক্ষিত আছে কি না—সেসব বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ত্রাণ বিতরণে কারা সমন্বয় করেছেন এবং কীভাবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নির্বাচন করা হয়েছে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের একাংশ দুর্যোগকালীন সময়ে থানা পুলিশের মাধ্যমে সরাসরি ত্রাণ বিতরণের প্রশাসনিক ও আইনি ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের কোনো লিখিত নির্দেশনা বা নীতিমালার আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ওয়েবসাইটেও নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি বলে তারা উল্লেখ করেন।
এদিকে ত্রাণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচিত দোহাজারীর বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম সুমন নামের এক ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের কোনো পদে কর্মরত কি না, অথবা সরকারি কোনো দায়িত্বে যুক্ত কি না—সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে পুরো কার্যক্রমে তাঁর সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস. এম. দিদারুল ইসলাম সিকদারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের অবস্থান জানা গেলে ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন