পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় জাতীয় ইলিশ মা মাছ সংরক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের মাঝে খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার নলুয়াভাগি সাংগঠনিক ইউনিয়নে আয়োজিত এ কার্যক্রমে মোট ৩৮৬ জন জেলের প্রত্যেককে ৪০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ মাছ রক্ষার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এতে করে জেলেদের স্বাভাবিক আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায় এবং তাদের জীবনে নেমে আসে আর্থিক অনিশ্চয়তা। এ বাস্তবতায় জেলেদের পাশে দাঁড়াতে মানবিক সহায়তা হিসেবে এই চাল বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোলখালী ইউনিয়নের টেকনিক্যাল অফিসার মোঃ শাহ মোঃ ইমন, প্যানেল চেয়ারম্যান-১ আকন মোঃ আবু সাইদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নলুয়াভাগি সাংগঠনিক ইউনিয়নের সদস্য সচিব মোঃ গিয়াস উদ্দিন জিয়া ঢালী, সচিব মোঃ রমিজ উদ্দিন এবং আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন পোন্চাইতসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সহায়তা পেয়ে অনেক জেলে স্বস্তি প্রকাশ করেন। তারা জানান, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এই খাদ্য সহায়তা তাদের দুঃসময়ে কিছুটা হলেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে। অনেকের চোখে কৃতজ্ঞতার ছাপও লক্ষ্য করা যায়, যা এ উদ্যোগের মানবিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
বক্তারা বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। এর প্রজনন মৌসুমে সংরক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই সময়ে জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা দেশের জন্য বড় ধরনের অবদান। তাই তাদের এই ত্যাগকে মূল্যায়ন করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
তারা আরও উল্লেখ করেন, নিয়মিত এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম চালু থাকলে জেলেরা আরও সচেতনভাবে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে উৎসাহিত হবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
স্থানীয়দের মতে, নদীভিত্তিক জীবিকা নির্ভর এই জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা অত্যন্ত অনিশ্চিত। তাই তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ও সহায়তা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
গলাচিপায় জেলেদের মাঝে চাল বিতরণের এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকলে জেলেদের জীবনযাত্রা কিছুটা হলেও স্থিতিশীল হবে এবং জাতীয় সম্পদ ইলিশ সংরক্ষণে তাদের অংশগ্রহণ আরও কার্যকর হবে।
মন্তব্য করুন