কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বালিখোলা ঘাটে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ। হাওর ভ্রমণকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আনন্দদায়ক করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা। এ লক্ষ্যে রবিবার (১৭ মে ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টায় কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সরেজমিনে বালিখোলা ঘাট পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি জেলা পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মাঝি প্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় পর্যটকদের নিরাপত্তা, নৌ-দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, যানজট নিরসন এবং পর্যটন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন পুলিশ সুপার।
জানা গেছে, হাওরের পর্যটন মৌসুমজুড়ে এবং বিশেষ করে প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক বালিখোলা ঘাটে ভ্রমণে আসেন। পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতেই জেলা পুলিশের এই বিশেষ উদ্যোগ।
পরিকল্পনার আওতায় বালিখোলা ঘাট ও আশপাশের নৌপথে জেলা পুলিশের বিশেষ টহল টিম নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া ইভটিজিং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও যেকোনো ধরনের হয়রানি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অস্থায়ী ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নৌ-ভ্রমণ নিরাপদ করতে প্রতিটি নৌকায় পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট রাখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মাঝিদের। একই সঙ্গে মাঝিদের জন্য বিশেষ গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে নৌ-দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়।
যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘাট এলাকায় স্থায়ী পুলিশ হেল্প ডেস্ক এবং কুইক রেসপন্স টিম (QRT) মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। এছাড়া পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা খাবারের দোকানে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া ঠেকাতে নির্ধারিত রেট চার্ট টানানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের যানবাহন পার্কিং নিয়েও নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। যানজট নিরসন এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে বালিখোলা ঘাট সংলগ্ন এলাকায় নির্দিষ্ট নিরাপদ পার্কিং জোন নির্ধারণের কাজ চলছে। নারী ও শিশু পর্যটকদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে নারী পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সবাই যেন নিরাপদে হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জেলা পুলিশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হলে পর্যটকদের আস্থা বাড়বে এবং হাওরকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প আরও বিকশিত হবে।
মন্তব্য করুন