ভোলার সদর উপজেলায় কৃষি খাতের আমূল পরিবর্তন এবং সেচ সংকট দূর করতে ৭৩টি খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভরাট হয়ে যাওয়া এসব খাল সচল হলে ফসলের উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে বিশাল একটি এলাকা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ ভোলা পৌরসভাসহ রাজাপুর, ইলিশা, পশ্চিম ইলিশা, বাপ্তা, ধনিয়া, শিবপুর, আলীনগর, চরসামাইয়া ও ভেলুমিয়াসহ পার্শ্ববর্তী চরাঞ্চলের খালগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় মোট ১৩ হাজার ৮৫০ মিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে খালগুলোকে গুরুত্বের ভিত্তিতে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি খালকে ‘অতি জরুরি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলোতে দ্রুত খনন কাজ শুরু না করলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও ৩৯টি খালকে ‘জরুরি’ এবং ১৪টি খালকে ‘কম জরুরি’ তালিকায় রাখা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য অতি জরুরি খালগুলো হলো: পৌর বাপ্তা মৌজার আবহাওয়া অফিস রোড সংলগ্ন খাল, ভোলা পৌর খাল, শাহামাদারের তেরো বোয়ালিয়া খাল, কানাইনগরের আন্দির ও শুক্কুর মোল্লা খাল, আলীনগরের মাদ্রাসা বাজার খাল এবং চর চন্দ্র প্রসাদের গোয়ালিয়া খালসহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, দীর্ঘদিন অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বোরো ও আমন মৌসুমে কৃষকদের তীব্র সেচ সংকটে পড়তে হয়। প্রস্তাবিত এই খালগুলো খনন করা হলে বৃহৎ এলাকা সেচ সুবিধার আওতায় আসবে এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমে বসতভিটা ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষা পাবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সেচ কাজে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সময়মতো এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে কৃষিকাজে আধুনিকায়ন ঘটবে এবং উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।
যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে এসব খাল সংস্কার ও পুনঃখননের কাজ শুরু করবেন বলে আশা প্রকাশ করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
মন্তব্য করুন