কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের গহীন পাহাড়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে একটি অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ইমাম হোসেন মিন্টু (৩৮) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মহেশখালী থানার হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে একটি সশস্ত্র চক্র গোপনে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের উদ্দেশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে চক্রটি জলদস্যুতা, পর্যটকদের ওপর হামলা, ডাকাতি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল বলে কোস্ট গার্ড দাবি করেছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন শাহপরী, টেকনাফ, বাহারছড়া, ইনানী, কক্সবাজার ও মহেশখালীর সমন্বয়ে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ৯টি দেশীয় পিস্তল, একটি বিদেশি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, ৩ লিটার দেশীয় মদ এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। একই সময় ইমাম হোসেন মিন্টুকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক মিন্টু মহেশখালীর হোয়ানক এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সশস্ত্র চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন বলে সংস্থাটির দাবি। তার বিরুদ্ধে ১৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের আটকের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া আলামত এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ধারাবাহিকতায় মহেশখালীসহ দেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যুতা, সন্ত্রাস, ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র তৈরি এবং চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন