মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে জন্মের পর মায়ের জ্ঞান ফেরার আগেই এক নবজাতক কন্যাশিশুকে পাচারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের এক ওয়ার্ডবয়ের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, গত ২৭ মে সদর উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামের ঝুমি আক্তার (২৫) সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। অভিযোগ রয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর তার জ্ঞান ফেরার আগেই একই এলাকার আখলিছ মিয়া নবজাতকটিকে হাসপাতাল থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ওয়ার্ডবয় প্রাণ কৃষ্ণ দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুনরায় মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসা ব্যয়ের কথা বলে ঝুমি আক্তারের মা সাফারুন বেগমের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার পর থেকেই নবজাতককে অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার বিষয়ে চাপ ও প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছিল। ঘটনাস্থলে আখলিছ মিয়ার স্ত্রীকেও শিশুটিকে নিতে অপেক্ষমাণ অবস্থায় দেখা যায়। উপস্থিত কয়েকজনের দাবি, সংবাদকর্মীদের সামনে তিনি টাকা দেওয়া এবং শিশু নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন।
পরে শিশু ও মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনাবেচা যে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, সে বিষয়ে অবহিত করা হলে সংশ্লিষ্টরা সেখান থেকে সরে যান।
এদিকে নবজাতকের মা ঝুমি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার সন্তানকে বিক্রি করব না। আমি শুধু আমার সন্তানের স্বীকৃতি চাই। সবাই আমাকে ছেড়ে গেছে। এখন আমি আমার সন্তানকে নিয়েই বাঁচতে চাই।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝুমি আক্তার পারিবারিক ও সামাজিকভাবে নানা সংকটের মধ্যে রয়েছেন। স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকেও তিনি প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটির বিভাগীয় প্রধান ছালেহ আহমদ সেলিম বলেন, শিশু বেচাকেনা বা পাচারের যেকোনো চেষ্টা গুরুতর অপরাধ। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করলে তাদের প্রয়োজনীয় সামাজিক কাউন্সেলিং ও আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।
বর্তমানে ঝুমি আক্তার ও তার নবজাতক কন্যা মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন