কিশোরগঞ্জে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সাংগঠনিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘জনশক্তি মিলনমেলা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) শহরের গাইটালস্থ আলমগীর হোসেন সিটি কনভেনশন হলে দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়।
মিলনমেলায় জেলার বিভিন্ন সময়ের সাবেক ও বর্তমান প্রায় দেড় হাজার জনশক্তি, কর্মী, সাথী ও সদস্য অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন পর এক ছাদের নিচে মিলিত হয়ে তারা স্মৃতিচারণ, মতবিনিময় এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বিনিময়ে অংশ নেন। পুরো আয়োজন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা সভাপতি ফকির মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মুজাহিদ বিল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সালাহউদ্দিন আইয়ুবী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক রমজান আলী, কামরুল হাসান মিলন, অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ, ফায়জুল হক উজ্জ্বলসহ জেলার সাবেক সভাপতি ও সেক্রেটারিবৃন্দ।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম, হয়বতনগর আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আজিজুল হক, ঢাকা ওয়ারী থানা আমীর মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নাদিম, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা আমীর মাওলানা নজরুল ইসলাম এবং ডা. মাসুদুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে ফকির মাহবুবুল আলম বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির একটি গতিশীল ছাত্রসংগঠন। প্রতিবছর অসংখ্য কর্মী ছাত্রত্ব শেষ করে নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিদায় নেন। অতীতে নানা প্রতিকূলতার কারণে সাবেকদের একত্রিত করার সুযোগ সীমিত ছিল। বর্তমান আয়োজনের মাধ্যমে তাদের অবদান স্মরণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, সংগঠনের সাবেক জনশক্তিরা বর্তমান কর্মীদের অভিভাবকস্বরূপ। তারা যেন বর্তমান জনশক্তিদের সার্বিক খোঁজখবর রাখেন এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সহযোগিতা করেন।
প্রধান আলোচক সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির একটি আদর্শভিত্তিক ছাত্রসংগঠন, যা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনের সাবেক জনশক্তিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করে। কিশোরগঞ্জে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তিন পর্বে অনুষ্ঠিত এ মিলনমেলায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য নাস্তা ও মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ধূমকেতু শিল্পীগোষ্ঠী ও কিশোরগঞ্জ কালচারাল সোসাইটির পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত সবার মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।
মন্তব্য করুন