শ্রীপুর উপজেলা-এ পুকুরের পানিতে ডুবে জিহাদ (৬) ও সুইটি (১৪) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন-এর পৃথক স্থানে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জিহাদ উপজেলার নগর হাওলা গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেনের ছেলে। সে নগর হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অন্যদিকে, নিহত সুইটি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সাখুয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। পরিবারটি দীর্ঘ ১১ বছর ধরে শ্রীপুর উপজেলার দক্ষিণ ধনুয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিল। সুইটি বাক প্রতিবন্ধী ছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে জিহাদ বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে খেলতে যায়। খেলতে খেলতে অসাবধানতাবশত সে পানিতে পড়ে যায়। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের সদস্যরা পুকুরপাড়ে তার জুতা দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত আল বারাকা হাসপাতাল, জৈনা বাজার-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একই সময় দক্ষিণ ধনুয়া এলাকায় সুইটি বন্ধুদের সঙ্গে পুকুরে গোসল করতে নামে। এ সময় পানিতে থাকা আরেক শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে সে নিজেই পানির নিচে তলিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। স্থানীয়রা দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর এক কৃষকের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। দুই পরিবারের সদস্যরা সন্তান হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয়রা জানান, একই দিনে দুই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোক ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্কুল ও আবাসিক এলাকার আশপাশে থাকা পুকুরগুলো দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। অনেক পুকুরের চারপাশে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী বা প্রাচীর না থাকায় শিশুদের জন্য তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা দাবি করেন, এ ধরনের অবহেলার কারণে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই দ্রুত পুকুরগুলোর চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বেড়া বা প্রাচীর নির্মাণ এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির আহমেদ বলেন, “পুকুরে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্য শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন