পঞ্চগড়ের সর্ববৃহৎ শালবাহান হাটে প্রভাবশালী একটি চক্রের কারণে মরিচ বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন শত শত কৃষক। কৃষকদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা ন্যায্য দামে উৎপাদিত মরিচ বিক্রি করতে পারছেন না।
স্থানীয় কৃষক ও চাষিদের অভিযোগ, হাটে কিছু প্রভাবশালী মহল কৃত্রিমভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে পাইকাররা কৃষকের কাছ থেকে মরিচ ক্রয় করছেন না। এতে উৎপাদিত মরিচ নিয়ে কৃষকদের হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে।
কৃষকদের দাবি, চড়া দামে সার ও কীটনাশক কিনে উৎপাদন করার পরও মৌসুমে সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ওজনে কারচুপির অভিযোগও রয়েছে, যেখানে ৪০ কেজির পরিবর্তে ৪২ কেজিকে এক মণ হিসেবে ধরা হয়।
গত ২০ জুন (শনিবার) শালবাহান হাটে এ ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শনে আসেন। তারা হাটে উপস্থিত হয়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে ৪০ কেজিতে এক মণ ধরে লেনদেন করার নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক বার্তা দেন।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু পাইকার ব্যবসায়ী মরিচ কেনাবেচা বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করেন কৃষকেরা। এতে তিরনইহাট ইউনিয়নসহ আশপাশের গ্রাম থেকে আসা শত শত কৃষক বিপাকে পড়েন।
এক কৃষক বিল্লাল হোসেন বলেন, “সারের দোকানে আমার হালখাতা রয়েছে। মরিচ বিক্রি করে সেই টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু হাটে এসে দেখি পাইকাররা সিন্ডিকেট করে কেনা বন্ধ করে দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অনুরোধ করছি—এই সিন্ডিকেট বন্ধ করে ৪০ কেজিতে এক মণ হিসেবে ন্যায্যভাবে আমাদের পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করা হোক।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি নিরসনে সরকারি বাজার তদারকি জোরদার করা এবং কৃষকদের সমবায় বা সরাসরি বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করা জরুরি।
মন্তব্য করুন