বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বুধবার (২০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা দাউদ আলী মল্লিকের পুত্র খলিলুর রহমান অভিযোগ করেন, পার-গোবিন্দপুর এলাকার মৃত শামছুউদ্দিন পাটোয়ারীর ছেলে মোস্তফা কামাল হালিম ও তার ছেলে ইসতিয়াক পাটোয়ারী দীর্ঘদিন ধরে তার মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রথমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সহায়তা নেন।
তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর থেকে মোস্তফা কামাল হালিম তার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করলে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দারস্থ হন। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি কিছুটা পিছু হটে। এরপর তিনি রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সম্পত্তি রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খলিলুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ইসতিয়াক পাটোয়ারী তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ভয়ে তিনি ১ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন বলেও দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাতে ইসতিয়াক পাটোয়ারীসহ কয়েকজন ব্যক্তি তার বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে আরও ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। একই সঙ্গে তার জমিতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি পুনরায় প্রশাসনকে অবহিত করার পর কিছু সময়ের জন্য নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকলেও পরে তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভূমি সংক্রান্ত একটি মামলা (নম্বর-৫৯/২৬) এবং ১৭ মে ২০২৬ তারিখে চাঁদাবাজির অভিযোগে আরেকটি মামলা (নম্বর-৪৩/২৬) দায়ের করা হয়, যেখানে তার স্ত্রী, কন্যা, মেয়েজামাই, ভাগ্নেসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, মামলার পাশাপাশি তাকে নিয়মিতভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “আমি বর্তমানে নিজের বাড়িতেই গৃহবন্দি অবস্থায় আছি। স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে বসবাস করাই এখন আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।”
তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং হয়রানি থেকে মুক্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোস্তফা কামাল হালিম বলেন, “আমরা ১৯৮৬ সালে এই জমি ক্রয় করেছি। কিন্তু প্রতিপক্ষ আমাদেরকে ভোগদখল করতে দিচ্ছে না। তাই আইনগতভাবে আমরা মামলা করেছি।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন