রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হাসান তালুকদারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, ছাত্র ও ছাত্রী হলের প্রভোস্ট, হাউজ টিউটর, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও শিক্ষাদর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিশ্বমানবতার এক অনন্য দিশারী। তাঁর জন্মদিন শুধু একজন কবির জন্মবার্ষিকী নয়, বরং এটি বাঙালির সংস্কৃতি, চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের এক মহামিলনের দিন।
তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। তিনি একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সংগীতস্রষ্টা, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও মানবতাবাদী চিন্তক। তাঁর সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম শুধু বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেনি, বিশ্বসাহিত্যেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
শিক্ষাদর্শন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষা মানুষকে মানবিক, সৃজনশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তোলার একটি প্রক্রিয়া। প্রকৃতি, শিল্প, সাহিত্য ও মানবিকতার সমন্বয়ে তিনি যে শিক্ষাব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক।
আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে রবীন্দ্রসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে বিশ্বকবির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক দর্শনের নানা দিক তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
এদিকে, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও অংশ নেয় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া। পরে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য, দর্শন ও শিক্ষাচিন্তা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন