গাজীপুরের শ্রীপুরে সালিস বৈঠকে সমাধান না হওয়াকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসাছাত্রী ফারিহা (১৬) অপহরণের ঘটনায় নাটকীয় মোড় নিয়েছে। চারদিন পর ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে পুলিশ, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৭ জনকে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভিকটিমের বাবা হাদিউল ইসলাম ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৩০ জনকে আসামি করে থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন—সজল আহমেদ (২৬), আবেদা (৪৫), রাজিয়া (৪৫), খলিল (৫০), মফিজুর রহমান (৫৩), তার স্ত্রী মনোয়ারা এবং শামীম (৩৫)। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভিকটিম ফারিহা ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বীর খারুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পরিবারের সঙ্গে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং স্থানীয় মাওনা তাহফিজুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মাওনা ফায়ার সার্ভিসের সামনে থেকে প্রধান আসামি আবিদ ও তার সহযোগীরা ফারিহাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। পরে পরিবারের চাপে পরদিন সকালে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলেও বিষয়টি নিয়ে সালিস বৈঠক বসে।
কিন্তু ওই সালিসে কোনো সমাধান না হওয়ায় একই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামিরা ভিকটিমের স্বজনদের মারধর করে আবারও ফারিহাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার নয়নপুর (এমসি বাজার) এলাকা থেকে অপহৃত ফারিহাকে উদ্ধার করে। তবে এ সময় প্রধান আসামি আবিদসহ কয়েকজন পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ভিকটিমকে মেডিকেল পরীক্ষা ও আদালতে জবানবন্দির জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মন্তব্য করুন