দীর্ঘ পাঁচ দশক পর আবারও আলোচনায় যশোরের ঐতিহাসিক উলশী খাল। এবার খাল খনন কাজের নতুন করে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। অতীতে এই প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আর এবারের উদ্যোগকে ঘিরে ফিরে আসছে পুরোনো দিনের বহু স্মৃতি ও রাজনৈতিক ইতিহাস।
স্মৃতির পাতায় ফিরে যান চাঁচড়ার এমদাদুল হক মল্লিক সান্টু, যিনি তখন ছিলেন কিশোর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময় ইউপি চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হোসেন মল্লিকের নেতৃত্বে শতাধিক মানুষ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে উলশী খাল খনন কর্মসূচিতে যোগ দেন। যাত্রাপথে বাসে ওঠার আগে সবাইকে নিয়ে তোলা হয়েছিল একটি স্মরণীয় ছবি—যা আজও সংরক্ষণ করে রেখেছেন তিনি।
সান্টু মল্লিক জানান, তার বাবা তোজাম্মেল মল্লিক ছিলেন চাঁচড়ার প্রভাবশালী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। সেই ঐতিহাসিক সফরে তার সঙ্গে ছিলেন খোকন মেম্বার, সোহাগ লালু, বাবলা, রবি, ফন্টে গোলদার ও বজলুসহ আরও অনেকে।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাদের সেই সময়কার সম্পর্ক ও আন্তরিকতা আজও তাকে আবেগাপ্লুত করে। এমনকি রাষ্ট্রপতির নির্দেশে তাকে একবার বিমানবন্দর পর্যন্ত গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
সান্টু মল্লিক আরও দাবি করেন, জিয়া পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি এরশাদের সময়ও তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। সে সময় রাষ্ট্রপতি ভবনে ডেকে আলোচনা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও তিনি স্মরণ করেন।
রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তোজাম্মেল মল্লিক ছিলেন একসময় স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তার রাজনৈতিক সম্পর্ক ও পরিচিতির কারণে তৎকালীন গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়।
এদিকে বর্তমান সময়ে উলশী খাল পুনরায় খনন কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। সান্টু মল্লিক মনে করেন, শুধু উলশী খাল নয়, যশোরের অন্যান্য খাল ও নদী যেমন ভৈরব, কপোতাক্ষ, বেতনা ও মুক্তেশ্বরীকেও পুনরুদ্ধার ও খননের আওতায় আনা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়ন সম্ভব। নদী-খাল পুনরুদ্ধার হলে দেশে সবুজ বিপ্লব ঘটতে পারে।
উলশী খাল ঘিরে এই নতুন প্রকল্প যেমন উন্নয়ন প্রত্যাশা জাগিয়েছে, তেমনি পুরোনো স্মৃতি ও রাজনৈতিক ইতিহাসকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে স্থানীয়দের আলোচনায়।
মন্তব্য করুন