শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় তীব্র দাবদাহে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এক শিক্ষকসহ অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় বিদ্যালয়জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে অনীহা প্রকাশ করছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার জাজিরা ইউনিয়ন এর পাথালিয়া কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। পূর্বের ভবন নদীগর্ভে বিলীন হলে ভাড়া জায়গায় টিনশেড ঘরে পাঠদান চলছিল, যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল। তবে ২০২৪ সালে নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের সময় বিদ্যালয়টি নিজস্ব জায়গায় আধাপাকা ভবনে স্থানান্তর করা হলেও সেখানে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি।
টানা কয়েকদিনের তীব্র গরম, টিনশেড ছাদের তাপ এবং আশপাশে গাছপালার ছায়াহীন পরিবেশে শনিবার দুপুরে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরিফা আক্তার। এরপর একে একে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির আরও অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে ইলমা, মাসুদ, রোমান, মারিয়া ও আরিফা।
হঠাৎ এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সহপাঠী ও শিক্ষকরা মিলে মাথায় পানি ঢেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলে তারা কিছুটা সুস্থ হয়।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফা আক্তার জানায়, প্রচণ্ড গরমে টিনের ঘরে বসে ক্লাস করা খুব কষ্টকর। ফ্যান না থাকায় অসুস্থ হয়ে পড়েছি। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আল আমিন বলে, স্কুলে কারেন্ট নেই, গরমে পড়াশোনা করা যায় না। আজ অনেকেই অসুস্থ হয়েছে, আমরা ভয় পাচ্ছি।
অভিভাবক সেন্টু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জামিলা খাতুন জানান, নতুন ভবনে স্থানান্তরের পর পুরোনো মিটার খুলে নেওয়া হয়। নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করা হলেও এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এ বিষয়ে জাজিরা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক গোবিন্দ চন্দ্র দাস বলেন, বিষয়টি আগে জানানো হয়নি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান জানান, বিদ্যালয়টি নদীভাঙন এলাকায় হওয়ায় কিছু জটিলতা রয়েছে। তবে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। আবেদন পেলে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন