টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা-তে মাদক সেবন ও ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সরকার ঘোষিত নীতির আলোকে উপজেলাজুড়ে মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করা হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম বলেন, কালিহাতীকে মাদকমুক্ত রাখতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের অবিলম্বে এসব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের তদবির বা সুপারিশ গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।
প্রশাসনের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদক সমস্যা একটি সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে, যা তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ফলে প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান পরিস্থিতি পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ইউএনও আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াই শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে সফল করা সম্ভব নয়। এজন্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং সিভিল সোসাইটির সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য গোপনীয়তার ভিত্তিতে প্রশাসনকে জানাতে হবে। এতে করে দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। তিনি আশ্বাস দেন, তথ্যদাতাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে কালিহাতী উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রশাসন আশা করছে, এই ধারাবাহিক অভিযান এবং জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে অচিরেই উপজেলাকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করে বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কঠোর আইনি প্রয়োগ জরুরি। তারা প্রশাসনের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পেতে হলে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুনর্বাসন ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে। প্রশাসনের বর্তমান উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন