দীর্ঘ ২১ মাসের অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজ কর্মস্থলে ফিরলেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার নিকড়দীঘি নান্দুলা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন। বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। এ সময় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিদ্যালয়ের মাঠেই সিজদায় লুটিয়ে পড়েন প্রধান শিক্ষক। হৃদয়স্পর্শী এ দৃশ্য উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আবেগের সৃষ্টি করে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিদ্যালয়ের কিছু স্থানীয় ব্যক্তি প্রধান শিক্ষক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হলে স্থানীয় চাপ ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মুখে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে কয়েক মাস তাঁর বেতন-ভাতাও বন্ধ রাখা হয়।
দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থাকতে হওয়ায় কবির হোসেন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানান তাঁর সহকর্মীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক বলেন, “বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছিল। প্রধান শিক্ষক ফিরে আসায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আমরা মনে করি, তিনি মূলত একটি মব পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন।”
বিদ্যালয়ে ফিরে প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন বলেন, “গত ২১ মাস ধরে আমি মবের শিকার হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে পারিনি। নিজের প্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারাটা আমার জন্য অত্যন্ত আবেগের এবং স্বস্তির বিষয়। আজ মনে হচ্ছে আমি আবার নিজের জায়গায় ফিরে এসেছি।”
বিদ্যালয়ে তাঁর ফিরে আসাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেক শিক্ষার্থী ফুল দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেয়। এলাকাবাসীর একাংশও তাঁকে শুভেচ্ছা জানান এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কবির হোসেনকে জোরপূর্বক সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি তদন্ত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে তাঁর বেতন পুনরায় চালু করা হয় এবং বিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়।
দীর্ঘ বিরতির পর প্রধান শিক্ষকের ফিরে আসা বিদ্যালয়টিতে নতুন করে স্বস্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন