বাগেরহাট-এ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগেরহাট জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সুজন মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও অনলাইন মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট প্রচার করা হচ্ছে। এসব তথ্যের কোনো সত্যতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। সুজন মোল্লার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুদিন আগেও একটি চক্র তার পরিবারের সদস্য পরিচয় দিয়ে, বিশেষ করে তার ভাইয়ের ছেলে ও ভাইপো সেজে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল। পরে বিষয়টি তদন্ত ও আলোচনার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
তবে সম্প্রতি আবারও নতুন করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সুজন মোল্লা বলেন, ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেনের নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে তার বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়েছে। বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার সম্মানহানির অপচেষ্টা বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমি সবসময় জনগণের পাশে থেকে কাজ করেছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
এ ঘটনায় তিনি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাগেরহাট সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার না করতে এবং গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সচেতন থাকতে হবে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সুজন মোল্লার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার ছড়িয়ে কাউকে হয়রানি করার সুযোগ নেই। তদন্তের মাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের অনেকে মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের প্রবণতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সচেতনতার পাশাপাশি কঠোর আইন প্রয়োগেরও প্রয়োজন রয়েছে।
মন্তব্য করুন