গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
শুক্রবার (৮ মে) রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার (৯ মে) সকালে ওই বাড়ি থেকে পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ভাড়াটিয়া ফোরকানের স্ত্রী, তার তিন সন্তান এবং শ্যালক। একসঙ্গে একই পরিবারের পাঁচজনের এমন ভয়াবহ মৃত্যুর ঘটনায় পুরো জেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফোরকানের স্ত্রীকে জানালার সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘরের মেঝেতে ২ থেকে ৫ বছর বয়সী তিন শিশু এবং খাটের ওপর শ্যালকের মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে মাদক সেবনের কিছু আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, মরদেহ পাওয়া তিনটি পৃথক স্থানের পাশে প্রিন্ট করা কাগজ পাওয়া গেছে। এসব কাগজের প্রকৃত বিষয়বস্তু এখনো নিশ্চিত না হলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এগুলো কোনো মামলার নথিপত্র বা গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভাড়াটিয়া ফোরকান মিয়া স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করতেন। শুক্রবার রাতেও তাদের স্বাভাবিকভাবে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। তবে এলাকায় প্রচলিত একটি ধারণা অনুযায়ী, ফোরকান ও তার স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল।
স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, সেই পারিবারিক বিরোধের জেরেই তিনি স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করে পালিয়ে থাকতে পারেন। তবে পুলিশ এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।
এদিকে ঘটনার পরপরই বাড়িটি ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে।
গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে একাধিক সংস্থা কাজ করছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।”
এ ঘটনায় পুরো গাজীপুর জেলায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন