যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সংঘবদ্ধ হামলা, হত্যাচেষ্টা, স্বর্ণালংকার লুট, শ্লীলতাহানি এবং মামলা তদন্তে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন ঝিকরগাছা উপজেলার শিওরদাহ গ্রামের বাসিন্দা মুর্শিদা আক্তার রেনুকা।
রোববার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মুর্শিদা আক্তার। এসময় উপস্থিত ছিলেন তার বাবা ইজ্জত আলী, স্বামী মনিরুজ্জামান মনির, বোন নুরুন্নাহার, ভাই শাহ আলম, চাচা গোলাম হোসেন, দুলাভাই আলিম হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দুপুরে তার পিত্রালয়ে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় প্রতিপক্ষের লোকজন বাড়িতে চলমান রান্নাঘর মেরামতের কাজে বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলায় অংশ নেন শিওরদাহ গ্রামের ইসমাইল হোসেন গাজী, ইমরান হোসেন সরদার, আজিজুর রহমান রিপন, হাসেম আলী সরদার, সুমন কবীর, মিন্টু সরদার, সাকিব হোসেন, তানজিম হাসানসহ আরও কয়েকজন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় তার গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে শ্লীলতাহানির শিকারও হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনি সাতদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানান।
ঘটনার পর ঝিকরগাছা আমলী আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি জি.আর-৪৬/২৫ নম্বরে রুজু হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩৫৪, ৩৭৯ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মুর্শিদা আক্তার অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তে প্রকৃত ঘটনা প্রতিফলিত হয়নি এবং প্রভাবশালী কয়েকজন আসামিকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ইসমাইল হোসেন, সাকিব হোসেন, রিপন, তানজিম ও সুমনকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, এক আসামি আদালত থেকে জামিন না নিয়েই সৌদি আরবে চলে গেছেন। এছাড়া ইসমাইল হোসেন ও তার ছেলে সাকিব জামিন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বর্তমানে জামিনে থাকা আসামিরা মামলা তুলে নিতে তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ তাদের আটক করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এসময় তিনি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে মামলার পুনঃতদন্ত, সব আসামির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ চার্জশিট দাখিল এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসা সনদ প্রদানে গাফিলতির অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।
মন্তব্য করুন