হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
২৫ জুন ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

পবিত্র আশুরার রোজা রাখার ফজিলত

নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ।

মহররম মাস ইসলামী হিজরি সনের প্রথম মাস এবং ইসলামের চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। এ মাসের ১০ তারিখ, অর্থাৎ আশুরার দিন, মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এ দিনে রোজা রাখার ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে বহু সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে আশুরার রোজা ফরজ ছিল। পরে দ্বিতীয় হিজরিতে রমজানের রোজা ফরজ হলে আশুরার রোজা নফল বা ঐচ্ছিক হিসেবে গণ্য হয়। তবে এর মর্যাদা ও সওয়াব অত্যন্ত বেশি।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ।”
— (সহিহ মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে আশুরার রোজা পালন করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে তা পালনের জন্য উৎসাহিত করতেন। হযরত আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে রাসুল (সা.) বলেন,

“আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফের কারণ হবে।”
— (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)

হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, জাহেলি যুগেও কুরাইশরা আশুরার দিনে রোজা পালন করত এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও তা পালন করতেন। মদিনায় হিজরতের পরও তিনি এ রোজা রাখতেন এবং অন্যদেরও নির্দেশ দিতেন। পরে রমজানের রোজা ফরজ হলে আশুরার রোজা ঐচ্ছিক হয়ে যায়।
— (সহিহ বুখারি)

আরো পড়ুন...  অসহায়দের মুখে হাসি ফোটাল আয়েশা নূরুল আলম ফাউন্ডেশন

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন রাসুল (সা.) আশুরার রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরও রাখতে বললেন, তখন সাহাবিরা বললেন, “ইহুদি ও খ্রিস্টানরাও এ দিনটিকে সম্মান করে।” এর উত্তরে রাসুল (সা.) বলেন,

“আগামী বছর বেঁচে থাকলে আমি ৯ তারিখও রোজা রাখব।”
— (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৩৪)

এ কারণে আলেমগণ আশুরার রোজার সঙ্গে ৯ মহররম অথবা ১১ মহররম মিলিয়ে রোজা রাখাকে উত্তম বলেছেন, যাতে ইহুদিদের সাদৃশ্য পরিহার করা যায়।

আরেক হাদিসে এসেছে,

“তোমরা আশুরার রোজা রাখো এবং ইহুদিদের সাদৃশ্য ত্যাগ করো; আশুরার আগে বা পরে আরও একদিন রোজা রাখো।”
— (মুসনাদে আহমদ)

আশুরার দিনে পরিবার-পরিজনের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করার বিষয়েও কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, তবুও অনেক গবেষক আলেম এ আমলকে গ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।

মহররম মাসে অধিক পরিমাণে নফল রোজা রাখা, তওবা-ইস্তিগফার করা, নফল ইবাদতে মনোযোগী হওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কল্যাণকর।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আশুরার রোজাসহ মহররম মাসের ফজিলতপূর্ণ আমলসমূহ যথাযথভাবে পালনের তাওফিক দান করুন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৪ মাস ১৭ দিন পর তেতুলিয়ায় শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব ফিরে পেলেন চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম

বড়লেখা সীমান্তে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক জব্দ

পবিত্র আশুরার রোজা রাখার ফজিলত

মিরুখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষার্থীদের দোয়া ও শুভকামনা অনুষ্ঠান

সাংবাদিক ও পরিবেশ সংগঠক স ম জিয়াউর রহমানের অসুস্থ পিতাকে দেখতে হাসপাতালে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ

মহেশখালীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিল কোস্ট গার্ড

জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

পটিয়া থানার মোড় বেবি টেক্সী, টেম্পু ড্রাইভার্স ও সহকারী ইউনিয়নের নতুন কমিটির অভিষেক সম্পন্ন

আজ গোল করলেই পেলের ঐতিহাসিক রেকর্ডে ভাগ বসাবেন নেইমার

শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ালেন বিএনপি নেতা আতা

১০

কালিয়াদহ বিলে অভিযানে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল জব্দ

১১

বিএনপি নেতা ফারুকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’র অভিযোগে মোংলায় মানববন্ধন

১২

মোরেলগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা উন্নয়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

১৩

তরুণদের স্বাবলম্বী করতে মোরেলগঞ্জে সিসিডিবির প্রশিক্ষণ আয়োজন

১৪

সবুজ পৃথিবীর প্রত্যয়ে মোরেলগঞ্জে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন

১৫

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কথিত নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কালিয়াকৈরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

১৬

ফেইথ ইন অ্যাকশনের উদ্যোগে ৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণ

১৭

শ্রীপুরে বৃক্ষরোপণে প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থা

১৮

খাগড়াছড়িতে সেনা অভিযানে আত্মসমর্পণ ২, নিহত ১

১৯

ঝোপে মিলল ‘চশমা সাইদ’-এর গলাকাটা মরদেহ

২০