রংপুরের বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে যুবক আরিফুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে বদরগঞ্জ শহীদ মিনারের সামনে রংপুর-পার্বতীপুর মহাসড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। এতে সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
নিহত আরিফুল ইসলাম (২৫) বদরগঞ্জ পৌর এলাকার বালুয়াভাটা আম্বিয়ার মোড় এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন। গত ৫ মে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনার ১৪ দিন পার হলেও মামলার প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ‘মার্ডার ফিরোজ’কে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা।
সড়ক অবরোধ চলাকালে শহীদ মিনার চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য দেন নিহত আরিফুলের চাচা মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “পুলিশ মামলার তিন নম্বর আসামি গোপাল ব্যানার্জীকে আটক করলেও তাকে রিমান্ডে নেওয়ার কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। আমরা মনে করি, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মূল আসামি ফিরোজ কোথায় আত্মগোপনে রয়েছে, সেই তথ্য বেরিয়ে আসবে।”
সমাবেশে অংশ নেওয়া সিরাজ নামের এক যুবক বলেন, “মার্ডার ফিরোজ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে আমরা বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারছি। এমনকি বদরগঞ্জের বিভিন্ন বালু মহাল থেকেও সে ভাগ নিচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। অথচ পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।”
নিহতের বাবা রেজাউল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রশাসনের প্রতি আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমার ছেলে আর ফিরে আসবে না। কিন্তু আমি বিচার চাই। প্রয়োজনে আমার শেষ সম্বল পাঁচ শতক ভিটেমাটি বিক্রি করেও হলেও আমি বিচার চাই। প্রশাসনের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, মূল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করুন।”
এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়ে গেলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সড়ক অবরোধের কারণে রংপুর-পার্বতীপুর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান জাহিদ সরকার বলেন, “আরিফুল হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধান আসামিকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
মন্তব্য করুন