
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও নগ্ন ছবি–ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী সম্পা দাস (২৬) নিজে বাদী হয়ে অভিযুক্ত রাজু আহম্মেদ (৩০) নামের ওই যুবকের বিরুদ্ধে কালিহাতী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত রাজু আহম্মেদ মজনু মিয়ার ছেলে এবং সিলিমপুর চাটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্ত রাজু আহম্মেদ ভুক্তভোগী সম্পা দাসকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তার স্বামীর বাড়ির সামনে অবস্থিত পরিত্যক্ত একটি রাইস মিলে ডেকে নেয়। সেখানে বিভিন্ন কথা বলে কৌশলে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর কাপড় খুলে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে।
পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্ত রাজু আহম্মেদ ভুক্তভোগীকে পাশের বাগুটিয়া ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এরপর ব্রিজের নিচে থাকা অবস্থায় এক অটোরিকশা চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ভুক্তভোগী তার স্বামীকে বিষয়টি জানালে স্বামী এসে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত রাজু আহম্মেদ ধারণকৃত নগ্ন ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন। সামাজিক মানসম্মানের ভয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি গোপন রাখে।
তবে গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্ত রাজু আহম্মেদ সিলিমপুর চাটিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির ‘স’ মিলের সামনে স্থানীয় লোকজনকে ওই নগ্ন ছবি ও ভিডিও দেখাতে গেলে এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে আটক করে মারধর করে।
খবর পেয়ে কালিহাতী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে প্রথমে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে পরে থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে অভিযুক্ত রাজু আহম্মেদ কালিহাতী থানার পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
কালিহাতী থানার পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় থানায় মামলা ও প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে।
মন্তব্য করুন