নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ৫ নম্বর অর্জুনতলা ইউনিয়নে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সুপরিচিত সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের বার্ষিক সাধারণ সভা, নতুন লাখপতি নির্বাচন এবং ‘স্বপ্নের বাজার’ কর্মসূচির বিজয়ীদের নাম ঘোষণা উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
শুক্রবার (২৯ মে) বাদ মাগরিব অর্জুনতলার সৈয়দ রুহুল আমিন স্মৃতি একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। তেলাওয়াত করেন হাফেজ কামরুল হাসান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টপ স্টার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বপ্নদ্রষ্টা লায়ন সৈয়দ হারুন এমজেএফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও সৈয়দ রুহুল আমিন স্মৃতি একাডেমির সিইও আবদুস সাত্তার বিএসসি, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিন, সমাজসেবক হারুনুর রশীদ, আবু ইউসুফ, নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, মির্জা সোলাইমান, হোসেন সৈয়দ সোহরাওয়ার্দী, মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, সৈয়দা সাজেদা আক্তার শেলী এবং শাহাদাত হোসেন খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব ছিল নতুন লাখপতি নির্বাচনের লটারি। উপস্থিত সবার সামনে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় পরিচালিত লটারিতে চলতি বছরের দুইজন নতুন লাখপতি নির্বাচিত হন। তারা হলেন অর্জুনতলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাকপ্রতিবন্ধী মাসুদ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হরমুজা বেগম।
বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হলে পুরো অনুষ্ঠানস্থল করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। উপস্থিত অনেকেই এই উদ্যোগকে সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য আশার আলো হিসেবে উল্লেখ করেন।
এছাড়াও ফাউন্ডেশনের জনপ্রিয় ‘স্বপ্নের বাজার’ কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড থেকে লটারির মাধ্যমে ৯ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীরা হলেন— ১ নম্বর ওয়ার্ডের মনিরের স্ত্রী, ২ নম্বর ওয়ার্ডের পুষ্প বেগম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. হেদায়েত উল্লাহ, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রেজিয়া বেগম, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল হক চৌকিদার, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জেসমিন আক্তার, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুল আমিন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ইউসুফ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সামা।
অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের সাবেক সদস্য আবু নাইম ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১ নম্বর ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ‘স্বপ্নের বাজার’ বিজয়ীদের বাজার করে দেওয়ার ঘোষণা দিলে উপস্থিত সবাই তাকে সাধুবাদ জানান।
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন ধারাবাহিকভাবে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৯ জন ব্যক্তি লাখপতি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। একইসঙ্গে ‘স্বপ্নের বাজার’ কর্মসূচির মাধ্যমে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বড় মাছ, গরু ও খাসির মাংস, মুরগি, কাঁচাবাজার, মুদি সামগ্রী ও ফলমূল কিনে দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ৯ জনসহ মোট ১৮ জন এ সুবিধা পেয়েছেন।
শুধু মানবিক সহায়তা নয়, শিক্ষা ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে সংগঠনটি। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা, সনদপত্র এবং পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী এ সুবিধা পেয়েছে।
এছাড়া ২০২৫ সাল থেকে সেনবাগ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রীকে গোল্ড মেডেল প্রদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ফাউন্ডেশন সূত্রে আরও জানা যায়, অর্জুনতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা সহায়তা এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩০০-এর বেশি শিক্ষার্থী এবং ২০০-এর বেশি রোগী সরাসরি আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আগামী এক বছরের জন্য সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের নতুন আহ্বায়ক হিসেবে মাহমুদুর রহমান রাকিব এবং সদস্য সচিব হিসেবে মাইন উদ্দিনের নাম ঘোষণা করা হয়।
একইসঙ্গে সংগঠনের বিধিমালা অনুযায়ী বিদায়ী সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাদের হাতে সার্টিফিকেট, ক্রেস্ট এবং বিদায়ী সংবর্ধনা তুলে দেন অতিথিরা।
বক্তারা বলেন, মানবিকতা, শিক্ষা বিস্তার ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে সেনবাগের সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের পাশাপাশি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
সবশেষে নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আনন্দঘন পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে সৈয়দ রুহুল আমিন স্মৃতি একাডেমি প্রাঙ্গণ। উপস্থিত সবাই মানবিক এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ফাউন্ডেশনের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করেন।
মন্তব্য করুন