চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এসকাফ (Eskuf) সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃত সিরাপগুলো ফেন্সিডিলের বিকল্প হিসেবে মাদকসেবীদের কাছে পরিচিত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর একটি বিশেষ টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনামসজিদ বিওপি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত নায়েক মোঃ রায়হানুল হকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযান চলাকালে টহল দল সীমান্ত পিলার ১৮৫/১-এস থেকে প্রায় এক কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সোনামসজিদ ভেহিক্যাল স্ক্যানার সংলগ্ন সোনাপুর এলাকার একটি আমবাগানে তল্লাশি পরিচালনা করে। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা দ্রুত পালিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে মাদকদ্রব্য ফেলে রেখে যায়।
পরে টহল দল সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এসকাফ সিরাপ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত এসব সিরাপ অবৈধভাবে সীমান্ত পথে বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে ধারণা করছে বিজিবি।
বিজিবি আরও জানায়, উদ্ধার হওয়া নেশাজাতীয় সিরাপগুলো সাধারণ ডায়েরি (জিডি)ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এগুলো শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হবে।
মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী (এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মাদক ও অবৈধ পণ্য পাচারকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ বন্ধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্য দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনামসজিদ সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ও চোরাচালান প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। মাঝে মধ্যেই এ সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন মাদকদ্রব্য দেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও টহল কার্যক্রমের কারণে অনেক সময় এসব মাদক চালান আটক হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমান্তে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি আরও জোরদার করা হলে মাদক পাচার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন