পবিত্র ঈদ-উল-আজহা ২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপনের লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদ উদযাপনকে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্নভাবে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন নিয়ে এ সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বুধবার (২০ মে) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী। তিনি বলেন, পবিত্র ঈদ-উল-আজহা মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব সুষ্ঠুভাবে উদযাপন করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি ঈদ জামাতের নিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ ইয়াছিন আলী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি মোঃ খাইরুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, ঈদ-উল-আজহার প্রধান অনুষঙ্গ হলো কোরবানি। তাই কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করা এবং বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ রোধ করা সম্ভব এবং একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা যাবে।
সভায় ঈদ জামাতে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যানজট নিরসন, কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং জোরদার করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রতি বছর ঈদ-উল-আজহাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়, বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট। তাই আগে থেকেই সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে এসব সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।
শেষে উপস্থিত সবাই ঈদ-উল-আজহা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধবভাবে উদযাপনের জন্য একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সভাটি একটি সুষ্ঠু ও ফলপ্রসূ সমাপ্তির মাধ্যমে শেষ হয়।
মন্তব্য করুন