
পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)। বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) পানছড়ি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় একটি মাদ্রাসা ও ছয়জন গরিব ও অসহায় পরিবারের মাঝে সোলার প্যানেল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি দুইজন মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, পিপিএম (সেবা)সহ স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড নিয়মিতভাবে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও উন্নয়নমূলক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা সীমিত থাকায় সোলার প্যানেল সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়ক হবে। এটি শুধু আলো নয়, আশা এবং সুযোগও প্রদান করবে।”
অনুদান বিতরণ শেষে সহায়তা প্রাপ্ত পরিবার ও শিক্ষার্থীরা বিজিবির এই মহতী উদ্যোগের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, সোলার প্যানেল পেয়ে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ও পড়াশোনায় বড় সহায়তা হবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংকটে রাতের সময় আলো না থাকায় পড়াশোনায় বাধা পেতো—এ সমস্যা এখন অনেকাংশে সমাধান হবে।
স্থানীয়রা বিজিবির এ মানবিক উদ্যোগকে শান্তি ও উন্নয়নের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। তারা বলেন, “বিজিবির এমন সহায়তা পার্বত্য অঞ্চলে সামাজিক ঐক্য ও মানবিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সম্ভব হচ্ছে।”
এদিকে, মানবিক সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশকে প্রধানমন্ত্রীর “সমতা ও উন্নয়ন” মডেলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বিজিবি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।
পানছড়িতে এই মানবিক উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, শান্তি ও সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন এলাকার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় প্রশাসন।
মন্তব্য করুন