
দীর্ঘ ২১ বছর পর শ্বশুরবাড়ি সিলেটে পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমনকে ঘিরে সিলেটজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। স্ত্রী **জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়ি ‘রাহাত মঞ্জিল’**সহ পুরো এলাকা সাজানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও শুভেচ্ছা বার্তায়। “দুলাভাইয়ের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম”—এমন লেখা ব্যানারে ছেয়ে গেছে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়ন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৮টা ১০ মিনিটে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে তারেক রহমান সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ঢাকার বাইরে এটি তার প্রথম সফর এবং এখান থেকেই তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু করছেন। ফলে রাজনৈতিক ও পারিবারিক—দুই দিক থেকেই এই সফরকে ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিমানবন্দর, আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ, দক্ষিণ সুরমা এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহ পরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে স্ত্রী জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়ি ‘রাহাত মঞ্জিল’-এ যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রায় ১২ হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন তিনি। রাত যাপনের জন্য তিনি অবস্থান করবেন গ্র্যান্ড সিলেট হোটেলে।

এ সফর উপলক্ষে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। জিয়া ফাউন্ডেশন ইউরোপের সমন্বয়ক ও সিলাম এলাকার বাসিন্দা শরীফুল ইসলাম স্বপন বলেন, বহু বছর পর তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও শিরনি বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। এ জন্য ৪০ হাঁড়ি আখনি রান্না করা হচ্ছে এবং দোয়া শেষে প্রায় ১২ হাজার মানুষের মধ্যে শিরনি বিতরণ করা হবে।
এদিকে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সিলেটের এই সফর শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিই নয়, বরং আবেগঘন পারিবারিক সফর হিসেবেও গুরুত্ব বহন করছে। শ্বশুরবাড়িতে জামাই হিসেবে তারেক রহমানের আগমন সিলেটবাসীর মধ্যে বাড়তি আবেগ সৃষ্টি করেছে। সমাবেশের আগের রাত থেকেই আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। বিএনপি নেতাদের প্রত্যাশা, জনসভায় ৭ থেকে ৮ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে।

দলীয় প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নগরীজুড়ে লাগানো হয়েছে ব্যানার, বিলবোর্ড ও ফেস্টুন। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠসহ আশপাশের এলাকায় প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।
বৃহস্পতিবার সকালে তারেক রহমান গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পরে সকাল ১০টার দিকে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন। এই জনসভা থেকেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১১টি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর শ্বশুরবাড়িতে তারেক রহমানের আগমন সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক স্মরণীয় ও উৎসবমুখর অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
মন্তব্য করুন