প্রদত্ত লেখাটি একটি ধর্মীয় কলাম/মতামতধর্মী নিবন্ধ হিসেবে সম্পাদনা করে প্রকাশযোগ্য আকারে উপস্থাপন করা হলো—
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারিম, আম্মা বা’দ।
বর্তমান যুগকে অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ ‘ফিতনার যুগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। চারদিকে নৈতিক অবক্ষয়, ধর্মীয় উদাসীনতা ও বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর মতবাদের বিস্তারের কারণে একজন মুসলমানের জন্য ঈমানকে সুদৃঢ় রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তাই ঈমান রক্ষা এবং দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার বিষয়ে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ইসলামে ঈমানের গুরুত্ব অপরিসীম। ঈমান শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো বিশ্বাস করা, স্বীকৃতি দেওয়া এবং আনুগত্য প্রকাশ করা। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন—
“তারা মুসলমান হয়ে আপনাকে ধন্য করেছে মনে করে। বলুন, তোমরা মুসলমান হয়ে আমাকে ধন্য করেছ মনে করো না; বরং আল্লাহ তোমাদের ঈমানের পথে পরিচালিত করে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন।”
— (সূরা হুজুরাত: ১৭)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—
“যারা কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের কেউ যদি পৃথিবীভর্তি স্বর্ণ মুক্তিপণ হিসেবে দিতে চায়, তবুও তা গ্রহণ করা হবে না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না।”
— (সূরা আলে ইমরান: ৯১)
ঈমানকে সুদৃঢ় রাখার অন্যতম উপায় হলো অন্যায় ও গর্হিত কাজের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় কাজ দেখবে, সে যেন তা হাত দ্বারা প্রতিরোধ করে। যদি সে তা না পারে, তাহলে জিহ্বা দ্বারা প্রতিরোধ করবে। আর যদি তাও না পারে, তবে অন্তরে তা ঘৃণা করবে। আর এটাই ঈমানের দুর্বলতম স্তর।”
— (সহিহ মুসলিম)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন—
“মানুষের অন্তরসমূহ পরম করুণাময় আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে তা পরিবর্তন করেন।”
— (মুসলিম, তিরমিজি)
এ কারণে মুমিনের উচিত সবসময় আল্লাহর কাছে নিজের ঈমান ও হিদায়াতের স্থায়িত্ব কামনা করা। কোরআনে আল্লাহ তাআলা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া শিখিয়েছেন—
“রাব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা’দা ইয হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিল্লাদুনকা রাহমাহ; ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহাব।”
অর্থ: “হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের হিদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরকে বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহাদানশীল।”
— (সূরা আলে ইমরান: ৮)
হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রায়ই এ দোয়া পাঠ করতেন—
“ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুবি, সাব্বিত কালবি আলা দ্বীনিকা।”
অর্থ: “হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অটল রাখুন।”
আরেকটি দোয়া হলো—
“আল্লাহুম্মা মুসাররিফাল কুলুবি, সাররিফ কুলুবানা আলা তা’আতিকা।”
অর্থ: “হে আল্লাহ! হে অন্তরসমূহের নিয়ন্ত্রক! আমাদের অন্তরকে আপনার আনুগত্যের ওপর স্থির রাখুন।”
— (সহিহ মুসলিম)
বর্তমান সময়ের নানা ফিতনা থেকে বাঁচতে নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, আল্লাহর জিকির, সৎ মানুষের সাহচর্য গ্রহণ এবং বেশি বেশি দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈমান রক্ষার জন্য আল্লাহর সাহায্যের বিকল্প নেই।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সবাইকে ঈমানের ওপর অটল থাকার এবং তাঁর নির্দেশিত পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।
মন্তব্য করুন