
বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে আরও বৈচিত্র্যময়, টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করতে সরকার ও বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে কাজ করছে। তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে “এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিজে)” প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বড় পরিসরে নীতিগত সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় রাজধানীর পূর্বাচলস্থ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর আয়োজনে এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞ হোসনে ফেরদৌস সুমি, প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট-এর চেয়ারম্যান ড. এম. এ. রাজ্জাক, ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র অর্থনৈতিক উপদেষ্টা বমি ওয়াইস প্যারে, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আব্দুর রহিম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই একক নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ২০৩০ সালের ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে নন-পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি অন্তত ২.৫ গুণ বাড়াতে হবে। এজন্য চামড়া, জুতা, প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশলসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে চারটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহার, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং পণ্য প্রোটোটাইপিংয়ের সুবিধা পাবেন। প্লাস্টিক খাতের দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে “বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লাস্টিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি” ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে, যা প্রতিবছর এক হাজার দক্ষ টেকনিশিয়ান তৈরি করবে।
রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ‘এক্সপোর্ট রেডিনেস ফান্ড’-এর মাধ্যমে ১১০টিরও বেশি কারখানাকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন, পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণ এবং প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, শুধু পোশাক খাতের ওপর নির্ভর করে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে আইসিটি, ওষুধ শিল্প এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নই হবে বাংলাদেশের শিল্পায়নের পরবর্তী ধাপের মূল চাবিকাঠি।
সেমিনারে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও অংশীজনরা অংশ নেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সরকার সহজ শর্তে ঋণ ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করলে বিশ্ববাজারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
মন্তব্য করুন