লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা গোলাম ছোবাহানী ভূইয়ার জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমি উদ্ধার করতে আদালতে মামলা দায়ের করায় প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে খুন-জখমের হুমকিও দিচ্ছে বলে তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টায় উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আউলিয়ারহাট এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা গোলাম ছোবাহানী এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রায় ২৩ বছর আগে ২০০২ সালে আউলিয়ারহাট হিন্দুপাড়া এলাকার অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফফারের কাছ থেকে দলিলমূলে ১৫ শতক জমি ক্রয় করেন তিনি। দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি দখল করে থাকলেও প্রায় এক বছর আগে একই এলাকার সগেন্দ্রনাথ ও শড়ী নারায়ন চন্দ্র রায় জোরপূর্বক ওই জমি বেদখল করেছেন।
জমি উদ্ধারের জন্য ভূমি আইনে লালমনিরহাট আদালতে মামলা দায়ের করলে, প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি জানান, “আমার হাতে বৈধ দলিল আছে, তবু এক বছর ধরে জমি দখল করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকে আমাদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল গফফার জানান, “১৯৯৬ সালে ওই এলাকার নাবালকের আইনগত অভিভাবক সতিশ চন্দ্র রায় আমার কাছে ৬২ শতক জমি বিক্রি করেন। পরবর্তীতে ১৫ শতক জমি গোলাম ছোবাহানী ভূইয়ার কাছে বিক্রি করা হয়। দীর্ঘ ২৩ বছর পর জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ।”
অভিযোগ অস্বীকার করে সগেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “১৯৯৮ সালে আমি সতিশ চন্দ্র রায়ের ছেলের কাছ থেকে ৩৮ শতক জমি ক্রয় করেছি এবং সেখান থেকেই দখল করে আসছি। কারো জমি দখল করা হয়নি।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবার ও স্বজনরা দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, পাশাপাশি জমি দখল রোধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মৌখিক ও দলিলভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই মামলাটি স্থানীয় প্রশাসন ও ভূমি আদালতের তৎপরতার ওপর নির্ভর করছে। ঘটনাটি এলাকায় শान्तি-শৃঙ্খলা ও মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রশাসনিক নজরদারি কাম্য করে তুলেছে।
মন্তব্য করুন