হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
১৪ জুলাই ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

পরকীয়ার জেরে স্বামী হত্যা: ২০ বছর পর স্ত্রী-প্রেমিকসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে স্বামীকে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ ২০ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলায় নিহত কেতাব উদ্দিনের স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং স্ত্রীর প্রেমিকসহ চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক জয়নাল আবেদীন এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ফুলবাড়ী উপজেলার গোড়কমন্ডল গ্রামের নিহত কেতাব উদ্দিনের স্ত্রী নুর নাহার (৪৮), তার মা ছকিনা বেগম (৬০), বাবা নুর মোহাম্মদ (৬৮) এবং নুর নাহারের পরকীয়া প্রেমিক আব্দুল গফুর (৫২)।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৮ এপ্রিল ফুলবাড়ী উপজেলার গোড়কমন্ডল গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মামলার এজাহার সূত্রের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম জানান, নুর নাহার তার স্বামী কেতাব উদ্দিনকে দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে কৌশলে প্রেমিকের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নুর নাহার, তার বাবা-মা এবং প্রেমিক আব্দুল গফুর মিলে কেতাব উদ্দিনকে হত্যা করে বাড়ির পাশের জমিতে মরদেহ ফেলে রাখেন।

আরো পড়ুন...  বাবার দান করা জমি ছেলের নামে, বিপাকে কুড়িগ্রামের সরকারি স্কুল

ঘটনার পরদিন ১৯ এপ্রিল নিহতের বাবা আলী মুদ্দিন বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে ফুলবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত চারজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হওয়ায় অপর ছয় আসামি—গাজীবর রহমান, কুমুর উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম, নুর হোসেন, হাসেম আলী ও রফিকুল ইসলামকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন আলো ও অ্যাডভোকেট শামছুল হক।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন আলো বলেন, “আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট নই। উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।”

দীর্ঘ দুই দশক পর বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার রায়ে নিহতের স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে নগদ টাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে নববধূ উধাও

১

মোরেলগঞ্জে শিক্ষকদের জিপিএফ ফান্ড জালিয়াতি: ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, তদন্তে দুদক

২

মোরেলগঞ্জে ব্রি ধান-১০৩ চাষে উৎসাহিত করতে কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ

৩

ফুটবলের সঙ্গে স্বপ্নের পাঠশালা, যশোরে তৈরি হচ্ছে নতুন প্রজন্ম

৪

বঞ্চনা আর দুর্গমতার আড়ালে হারিয়ে গেছে পাহাড়ের নিরাপদ স্যানিটেশন

৫

সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে বিকল ফিশিং বোট, ১৩ জেলে উদ্ধার

৬

ব্যক্তি নয়, তথ্যই মুখ্য: সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথচলায় প্রফেসর ড. আবু নাছের

৭

শ্রীপুর প্রেস ক্লাবের ভবনের ছাদ ঢালাই কাজের উদ্বোধন

৮

মোরেলগঞ্জে সিসিআরসি নির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন

৯

মোরেলগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত

১০

কুলিয়ারচরে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ উদ্দিন বাবুলের গণসংযোগ

১১

বেতিল হাট-বাজার বণিক সমবায় সমিতির নির্বাচনে ভোটার সিরিয়াল কার্ড বিতরণ

১২

মিরুখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ‘মেলবন্ধন’

১৩

কুষ্টিয়ায় শ্রমিক নেতা কমরেড রেজন বিশ্বাসের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

১৪

শান্তিপূর্ণ বদরগঞ্জ অশান্তের চেষ্টা হলে জবাব দেওয়া হবে: তাতী দল সভাপতি

১৫

মহিপুরে দুই একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন

১৬

যাঁকে ভালোবাসা ছাড়া মুমিন হওয়া যায় না

১৭

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান

১৮

বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, যশোরে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

১৯

দেশ ও স্বাস্থ্যখাতে অস্থিরতার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে ড্যাবের মানববন্ধন

২০