কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকারের মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের অবসান ঘটিয়ে পুনরায় একসঙ্গে সংসার শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এক দম্পতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলিয়ারচর পৌরশহরের নোয়াগাঁও বেপারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা সানাউল্লাহ মিয়া ও তাঁর স্ত্রী জুলেখা আক্তারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। একপর্যায়ে বিচার ও প্রতিকারের আশায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার শরণাপন্ন হন জুলেখা আক্তার।
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন খন্দকার উভয় পক্ষকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে তাদের বক্তব্য শোনেন। পরে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটান।
আলোচনা শেষে সানাউল্লাহ মিয়া ও জুলেখা আক্তার অতীতের বিরোধ ভুলে নতুনভাবে একসঙ্গে সংসার জীবন শুরু করার অঙ্গীকার করেন। এ সময় তাদের নতুন পথচলাকে উৎসাহিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের হাতে একটি শুভেচ্ছা উপহারও তুলে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলম, কুলিয়ারচর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আজহার উদ্দিন লিটন, সাংবাদিক মো. নাঈমুজ্জামান নাঈম, আলী হায়দার, মো. সবুজ মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, আন্তরিকতা, ধৈর্য ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোলে অনেক পারিবারিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। জনবান্ধব ও মানবিক প্রশাসন গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পারিবারিক বিরোধ নিরসনে প্রশাসনের এমন মানবিক ভূমিকা সমাজে সম্প্রীতি ও পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।
মন্তব্য করুন