বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মরা নদ-নদীর জীবন সচল করে উত্তরবঙ্গকে একটি কৃষিভিত্তিক রাজধানী গড়ে তোলা হবে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় পলাশবাড়ী সূতি মাহমুদ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ১০ দলীয় ঐক্য জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “তিস্তা, ধরলা, করতোয়া সহ দেশের অন্যান্য মরা নদ-নদী এখন দেশের শরীরের রক্তনালীর মতো অবস্থানে নেই। এই নদ-নদীগুলো সচল করা হলে শুধু উত্তরবঙ্গই নয়, পুরো দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। আমরা জনগণের সঙ্গে মিলিত হয়ে ন্যায়, ইনসাফ ও জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।”
তিনি আরও বলেন, কালো টাকা ফিরিয়ে আনলে এবং যারা এখনও চুরি করছে তাদের প্রতিরোধ করা হলে, অবহেলিত উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন অনায়াসে সম্ভব হবে। চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মানুষকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “উত্তরাঞ্চল দেশের খাদ্য শস্যের তিন ভাগের এক ভাগ সরবরাহ করে। এখানে কৃষি-ভিত্তিক শিল্প ও কলকারখানা গড়ে তোলা হবে। বালাসী-বাহাদুরাবাদ সেতুর নির্মাণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”
স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নের কথাও তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান জানান, গাইবান্ধায় মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে। নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে, এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক নীতি নিয়েও বলেন, “আমরা কোন আধিপত্যবাদ সহ্য করবো না। প্রতিবেশী দেশসহ সকল দেশের সঙ্গে সম্পর্ক হবে সম্মানের ও সুদৃঢ়।”
সভায় জেলা জামায়াত ও ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাও. জহুরুল হক সরকার এর সঞ্চালনায় সভা পরিচালিত হয়। পলাশবাড়ী, সাদুল্লাপুর, গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়িসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের ঢল নামে।
ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তৃতায় প্রধানত উত্তরবঙ্গের নদ-নদীর পুনরুদ্ধার, কৃষি-ভিত্তিক শিল্পায়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়ন এবং নারী ও যুব সমাজের কল্যাণমূলক কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়া হয়। তিনি জনগণকে ন্যায়, ইনসাফ এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন