
কারাগারে দণ্ড ভোগ করা মানেই সব সময় জেলে থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে বন্দিকে সাময়িকভাবে কারাগারের বাইরে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়—এটাই প্যারোল।
প্যারোল হলো কারাদণ্ড ভোগরত বন্দিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাময়িক মুক্তি দেওয়া।
এ সময় বন্দিকে পুরোপুরি মুক্ত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয় না—সে নির্দিষ্ট শর্ত মানবে এবং সময় শেষ হলে আবার কারাগারে ফিরে যাবে।
প্যারোল সাধারণত মানবিক বা সামাজিক কারণে দেওয়া হয়, যেমন:
-গুরুতর অসুস্থতা
-নিকট আত্মীয়ের মৃত্যু
-পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে
-চিকিৎসা গ্রহণ
-বিশেষ সামাজিক বা মানবিক কারণে
-বন্দির আচরণ ভালো থাকলে এবং সংশোধনের পথে থাকলে
সব বন্দিই প্যারোল পাবেন না। সাধারণত নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়:
-অপরাধের ধরন
-কারাদণ্ডের মেয়াদ ও কতদিন দণ্ড ভোগ করেছেন
-কারাগারে আচরণ ও শৃঙ্খলা
-মুক্তি পেলে সমাজে ঝুঁকি তৈরি হবে কি না
গুরুতর ও জঘন্য অপরাধে দণ্ডিতদের ক্ষেত্রে প্যারোল খুব সীমিতভাবে বা নাও দেওয়া হতে পারে।
প্যারোল পেতে সাধারণত:
-বন্দি বা তার পরিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে
-আবেদন কারা কর্তৃপক্ষ যাচাই করে
-এরপর বিষয়টি জেলা প্রশাসন/স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়
-সব দিক বিবেচনা করে প্যারোল মঞ্জুর হলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়
প্যারোল পাওয়া বন্দিকে সাধারণত নিচের শর্তগুলো মানতে হয়:
-নির্দিষ্ট ঠিকানায় অবস্থান
-নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারাগারে ফেরত
-আইনশৃঙ্খলা রক্ষা
-কোনো ধরনের অশান্তি বা অপরাধ না করা
শর্ত ভঙ্গ করলে প্যারোল বাতিল হতে পারে এবং ভবিষ্যতে প্যারোল পাওয়ার সুযোগও কমে যায়।
না, প্যারোল ও জামিন এক নয়:
-জামিন: মামলার বিচার চলাকালীন দেওয়া হয়
-প্যারোল: দণ্ড ঘোষণার পর, যখন বন্দি সাজা ভোগ করছেন তখন দেওয়া হয়
প্যারোল হলো বন্দিদের জন্য একটি মানবিক আইনি সুযোগ, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে সাময়িক মুক্তি দেয়। এটি কোনো অধিকার নয়—কর্তৃপক্ষের বিবেচনার ওপর নির্ভর করে।
মন্তব্য করুন