বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি জনপদের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকায় এখনো পৌঁছায়নি নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থা। ফলে মৌলিক এই নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার হাজারো মানুষ।
সভ্যতার এই সময়ে এসেও জেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদগুলোর অনেক এলাকায় নেই নিরাপদ শৌচাগার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ফলে খোলা আকাশের নিচে মলমূত্র ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুর্গমতার কারণে সরকারের বিভিন্ন মৌলিক সুযোগ-সুবিধাও এসব এলাকায় পর্যাপ্তভাবে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বছরের পর বছর ধরে প্রত্যন্ত পাহাড়ের মানুষের জীবন যেন উন্নয়নের মূলধারার বাইরে রয়ে গেছে।
আলীকদম সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ক্রাসিং পাড়া। যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। তৈন খাল পেরিয়ে এরপর কয়েক ঘণ্টা হেঁটে পৌঁছাতে হয় গ্রামটিতে। সবুজ পাহাড়ে ঘেরা এই গ্রামে ২৫টি পরিবারের প্রায় ২৫০ মানুষের বসবাস। তবে কোনো বাড়িতেই নেই স্যানিটেশন ব্যবস্থা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভোর হলেই অনেকে খোলা আকাশের নিচে মলমূত্র ত্যাগ করেন। এতে আশপাশের পরিবেশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। শুধু ক্রাসিং পাড়া নয়, গহিনের মেথন পাড়া, বলয় পাড়া, মেনরাই, দরপাড়া ও চংরাই পাড়াসহ আরও কয়েকটি গ্রামেও নেই পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি পাড়াগুলোতে নিরাপদ শৌচাগারের সংকট দীর্ঘদিনের। দুর্গমতার অজুহাতে বিভিন্ন সরকারি সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে এসব এলাকার মানুষ পিছিয়ে পড়ছেন। যাতায়াতের সীমাবদ্ধতা থাকলেও মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটিকে স্থায়ী অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন তারা।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির সময় অনিরাপদ শৌচাগারের বর্জ্য ঝিরি ও ছড়ায় মিশে গিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা।
এলাকার অধিকাংশ মানুষ ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর। স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার পর্যাপ্ত সংস্পর্শ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে
মন্তব্য করুন