১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার বেলা ৩টায় উপজেলার তিন শতাধিক শিক্ষক বিক্ষোভ সহকারে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস, শিক্ষা অফিস ও সোনালী ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও প্রতিবাদ সভা করেন। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জেলা প্রশাসকের বরাবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
হিসাব রক্ষণ অফিসের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও সোনালী ব্যাংক মোরেলগঞ্জ শাখার কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি চক্র শিক্ষকদের জিপিএফ হিসাবের ১০ কোটি টাকার ওপরে শিক্ষকদের নামে ভুয়া লোন দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষকরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, একাধিক শিক্ষকের অ্যাকাউন্ট থেকে এ চক্রটি লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যার প্রেক্ষিতে হিসাব রক্ষণ অফিসের ৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত হয়েছেন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর তদন্ত টিম মাঠে তদন্ত করছে।
ভুক্তভোগী এসব শিক্ষক অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, শিক্ষকদের জিপিএফ ফান্ডের টাকা আত্মসাৎকারী বরখাস্তকৃত অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ফৌজদারি মামলা ও গ্রেফতারের দাবি জানান। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বরখাস্তকৃত হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা ও অডিটরদের সহযোগিতায় সংঘটিত ভুয়া লোন জালিয়াতির ঘটনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে জালিয়াতি চক্রের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে যে সব শিক্ষকের অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়া লোন দেখানো হয়েছে, অবিলম্বে তা সংশোধন করে শিক্ষকদের জিপিএফ অ্যাকাউন্টের টাকা যথাযথ হিসাব অনুযায়ী ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ ছাড়া ডিজিটাল স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে জিপিএফ থেকে যেকোনো লোন বা অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বায়োমেট্রিক ও সরাসরি মেসেজ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। প্রতিবাদ সভা থেকে এসব ৪ দফা দাবি তুলে ধরেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক তাসলিম আলম মানজার, এনামুল হক শামীম, মাসুম জাকারিয়া, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মোরেলগঞ্জ শাখার সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন মল্লিক, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মেরাজুল ইসলাম খসরু, সহকারী শিক্ষক সাবিনা আক্তারসহ একাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষক।
মন্তব্য করুন