
খাগড়াছড়িতে জব ফেয়ারের উদ্বোধন এবং কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে এক আলোচনা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে শহরের একটি স্কুলের মিলনায়তনে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী পর্ব শেষে শিক্ষার্থী ও তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
“কারিগরি শিক্ষা নিলে দেশ-বিদেশে কর্ম মিলে—একটাই লক্ষ্য, হতে হবে দক্ষ; পার্বত্য অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব” শীর্ষক এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ নীল রতন দত্ত। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোঃ আনোয়ার সাদাত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা সময়ের অপরিহার্য দাবি। কারিগরি শিক্ষাই পারে বেকারত্ব দূর করে তরুণ সমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে। তিনি আরও বলেন, দেশীয় শ্রমবাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হলে আধুনিক, সময়োপযোগী ও মানসম্মত কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের জন্য কারিগরি শিক্ষা হতে পারে আত্মনির্ভরশীলতার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, দক্ষতা ও পেশাগত জ্ঞান থাকলে তরুণরা সহজেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি শৃঙ্খলা, সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশ গঠনে অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএসআরএম-এর ট্যালেন্ট অ্যাকুইজিশন ও এইচআরবিপি (সেলস ও মার্কেটিং) বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার ফাহমিনা আসাদ, কেডিএস-এর এইচআর ও এডমিন প্রতিনিধি, কেওয়াই স্টিলের উপ-ব্যবস্থাপক শাহাদাত হোসেন এবং প্রাণ গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজার (এইচআর) মোঃ আশরাফুল ইসলাম। তারা বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বলেন, দক্ষ কর্মী তৈরি হলে শিল্পকারখানা যেমন উপকৃত হবে, তেমনি তরুণদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানও নিশ্চিত হবে।
বক্তারা পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীলতা বাড়বে এবং এর ফলে পুরো অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে নিয়মিত এমন উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জব ফেয়ার ও সেমিনারটি তরুণ সমাজের মধ্যে কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
মন্তব্য করুন