
মা—মাত্র দুটি অক্ষর, অথচ এর ভেতরেই লুকিয়ে থাকে একটি সন্তানের পুরো পৃথিবী। নিরাপত্তা, ভালোবাসা, আশ্রয় আর নিঃস্বার্থ ত্যাগের প্রতীক এই শব্দটি। কিন্তু যখন সেই ‘মা’ শব্দটি জীবনের বাস্তবতা থেকে হারিয়ে যায়, তখন সন্তান যেন হঠাৎ করেই দিশেহারা হয়ে পড়ে। আলো থাকলেও অন্ধকার ঘন হয়ে আসে, মানুষ থাকলেও ভেতরে জন্ম নেয় গভীর এক শূন্যতা।
পটুয়াখালীর কলামিস্ট মোঃ নাসির উদ্দিন তাঁর এক হৃদয়স্পর্শী লেখায় তুলে ধরেছেন মাকে হারানোর অসীম বেদনা এবং সেই শূন্যতায় দাঁড়িয়ে থাকা এক আলোকবর্তিকার গল্প—‘ছোট মা মনি’। তিনি বলেন, মাকে হারানোর পর জীবন যেন থমকে গিয়েছিল। চারপাশে স্বজন, পরিচিত মানুষ থাকলেও কোথাও একজন ‘মা’ ছিলেন না—যাঁর কোলে মাথা রেখে নিঃশর্তভাবে কাঁদা যায়।
ঠিক সেই সময়েই আল্লাহর রহমত হয়ে তাঁর জীবনে আবির্ভূত হন ছোট মা মনি। তিনি মায়ের স্থান দখল করতে আসেননি—কারণ মায়ের জায়গা কেউ নিতে পারে না। বরং তিনি এসেছিলেন শূন্যতার পাশে দাঁড়াতে, ভেঙে পড়া মনটাকে আগলে রাখতে। তাঁর ভালোবাসা ছিল নিঃশব্দ, দাবি–দাওয়াহীন এবং নিখাদ।
লেখক জানান, ছোট মা মনির আদর ও স্নেহে তিনি আবার বেঁচে থাকার শক্তি খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর আচরণে ছিল না কোনো প্রশ্ন, ছিল না কোনো প্রত্যাশার বোঝা। বরং ছিল এক গভীর মানবিকতা—যা হারানোর বেদনার মাঝেও কৃতজ্ঞ হতে শিখিয়েছে। ছোট মা মনি তাঁর জীবনে এমন এক আলো, যা হয়তো সব অন্ধকার দূর করতে পারেনি, কিন্তু চলার পথ দেখিয়ে দিয়েছে।
এই উপলক্ষে লেখক সকলের কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, “আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি—তিনি যেন আমার ছোট মা মনিকে দীর্ঘায়ু, সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করেন। যিনি মায়ের শূন্যতায় দাঁড়িয়ে সন্তানের চোখের জল মুছিয়ে দেন, তিনি নিঃসন্দেহে দোয়ার যোগ্য।”
লেখার শেষাংশে উঠে আসে একটি সার্বজনীন প্রার্থনা—এই পৃথিবীতে যেন আর কোনো সন্তানকে মাকে হারানোর আগুনে পুড়তে না হয়। কারণ মা হারানো মানে শুধু একজন মানুষকে হারানো নয়; এটি ছায়া হারানো, আশ্রয় হারানো, নিজের অস্তিত্বের এক অংশ হারানো।
কে প্রথম ‘মা’ শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন—তা জানা না থাকলেও, এই শব্দের মতো মধুর ডাক যে পৃথিবীতে আর কিছুই নেই, তা নিঃসন্দেহে সত্য। মা না থাকলেও, ছোট মা মনির ভালোবাসায় আজও টিকে আছেন লেখক—নীরব কৃতজ্ঞতা আর গভীর ভালোবাসায়
মন্তব্য করুন