
খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মানিকছড়ি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে উপজেলার পৃথক স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— মানিকছড়ি উপজেলার ৩নং তিনটহরী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড এলাকার মোঃ রাশেদুল ইসলাম হিরা (৩০) ও মোঃ জামাল উদ্দিন (৩২)। তারা দীর্ঘদিন ধরে ভিকটিম মোঃ বেলাল হোসেন (৪২)-এর সঙ্গে পূর্ব শত্রুতায় জড়িয়ে ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশি তথ্যে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে তিনটহরী ইউনিয়নের জয়নালের দোকানের সামনে বেলাল হোসেনকে একা পেয়ে অভিযুক্তরা তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা বেলালকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। বেলাল হোসেন এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় জামাল উদ্দিন বেলাল হোসেনকে জাপটে ধরে রাখেন এবং রাশেদুল ইসলাম হিরা একটি কাঁচের চায়ের কাপ ভেঙে তার ধারালো অংশ দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে বেলালের গলার বাম পাশ ও কানের নিচে সজোরে আঘাত করেন। এতে বেলাল হোসেন গুরুতরভাবে রক্তাক্ত হন এবং ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।
আহতের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত বেলাল হোসেনকে প্রথমে মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই মোঃ কাউছার বাদী হয়ে গত ১৯ জানুয়ারি মানিকছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি থানার মামলা নং-০৩ এবং জিআর নং-০৩/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৪/৩০৭/৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মানিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাসুদ পারভেজ জানান, ঘটনার পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।
পুলিশের এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন