খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে উপবৃত্তির অর্থ ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়ম, জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে বিদ্যালয়ের একটি কথিত ব্যবস্থাপনা কমিটি, যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত কয়েক বছরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির অর্থ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিয়ে নানা অভিযোগ তৈরি হয়। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করলে কমিটির বৈধতা এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন সামনে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি অনুমোদন ছাড়াই একটি কমিটি গঠন করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই কমিটির নামে সীলমোহর ব্যবহার করে বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নামে বরাদ্দকৃত কিছু অর্থ এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন খাতের টাকা যথাযথভাবে ব্যয় না হয়ে অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বরং বিভিন্ন সময় একে অপরের ওপর দায় চাপানোর প্রবণতা দেখা গেছে।
এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা অফিসার ঝর্ণা চাকমা বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে আব্দুল হাকিম নামের কোনো ব্যক্তি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন না। তিনি জানান, বর্তমান বিধি অনুযায়ী বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল হাকিম বলেন, তিনি নিজ উদ্যোগে সভাপতি হননি। বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের অনুরোধেই তিনি ওই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন বলে দাবি করেন।
এদিকে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম কমিটি গঠনের বিষয়টি স্বীকার করলেও তার কাছে সংশ্লিষ্ট কোনো নথিপত্র নেই বলে জানান। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় রেজিস্টার ও কাগজপত্র বিদ্যালয়ে থাকার কথা। তার বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত জবাব দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
বর্তমান প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কথিত ওই কমিটির কোনো রেজিস্টার বা অফিসিয়াল নথি পাননি। তবে আব্দুল হাকিম নামের একজনের ব্যবহৃত একটি সীলমোহর বিদ্যালয়ে পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা শিক্ষার পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মন্তব্য করুন