
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দৃষ্টিনন্দন ও বাহারি পাটজাত পণ্যের সমাহার ক্রেতাদের দারুণভাবে আকর্ষণ করছে। কম দামে টেকসই, নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় পাটের তৈরি পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও আধুনিক নকশার মেলবন্ধনে তৈরি সোনালি আঁশের পাটপণ্য এখন নগর জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী হিসেবেও জায়গা করে নিচ্ছে।
মেলায় পাট দিয়ে তৈরি কার্পেট, ব্যাগ, শতরঞ্জি, পর্দা, কুশন কভার, গয়নার বাক্স, শো-পিস, ফুলদানি, চেয়ার, টেবিল ম্যাট, রুম ম্যাট, ওয়াল ম্যাট, ফ্লোর ম্যাট, স্কুল-কলেজ ব্যাগ, লেডিস পার্স, ল্যাপটপ ব্যাগ, অফিস ব্যাগ, টিস্যুবক্স, কলমদানি, ভ্যানিটি ব্যাগ, স্যান্ডেল, ক্যাপ, বেডশিটসহ ৬০ থেকে ৭৫ ধরনের পণ্য স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি নারকেলের ছোবড়া, হোগলা পাতা, বাঁশ ও পাটের সুতার সংমিশ্রণে তৈরি পণ্যও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ছে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) প্যাভিলিয়নে ২০টি স্টলে এসব পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকলেও বিকেলের পর স্টলগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। স্টল মালিকদের মতে, ১২০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা দামের পণ্যের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তুলনামূলক বেশি দামের পণ্যের বিক্রি কিছুটা কম হলেও মান ও নকশার কারণে সেগুলোর প্রতিও আগ্রহ রয়েছে।
ঢাকার নিউমার্কেট থেকে আসা গৃহবধূ অনামিকা দাস বলেন, “হাতের তৈরি পাটপণ্যের নকশা আর দাম দুটোই ভালো। স্কুল ব্যাগ আর লেডিস ব্যাগ কিনেছি।” গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে আসা নাসিমা সুলতানা জানান, পাটের তৈরি ঘর সাজানোর পণ্য দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি টেকসই হওয়ায় তিনি কয়েকটি শোভাবর্ধন সামগ্রী কিনেছেন। মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সিনথিয়া জাহান বলেন, “পাট দিয়ে এত বৈচিত্র্যময় পণ্য তৈরি হয় তা আগে জানা ছিল না। এখন বোঝা যাচ্ছে, পাট শুধু চটের ব্যাগেই সীমাবদ্ধ নয়।”
স্টল সংশ্লিষ্টরা জানান, পাট বাংলাদেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল। অনুকূল মাটি ও জলবায়ুর কারণে দেশে উন্নতমানের পাট উৎপাদন হচ্ছে, যা দিয়ে বহুমুখী পণ্য তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারেও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে।
জেডিপিসির ম্যানেজার (অপারেশন) জাফর সাদেক বলেন, “পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশ রক্ষায় পাটপণ্যের ব্যবহার বাড়াতে হবে। ব্যবহারের পর পাটপণ্য সহজেই পচে যায়, যা পরিবেশবান্ধব।” তিনি আরও জানান, পরিবেশবান্ধব বহুমুখী পাটপণ্য ছড়িয়ে দিতে জেডিপিসির তালিকাভুক্ত প্রায় এক হাজার ১০০ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার মধ্য থেকে নির্বাচিত উদ্যোক্তারা মেলায় অংশ নিয়েছেন এবং এবারের মেলায় ২৮৮ ধরনের পাটপণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় পাটজাত পণ্য শুধু বিক্রির দিক থেকেই নয়, বরং পরিবেশ সচেতনতা ও ঐতিহ্যবাহী শিল্প পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মন্তব্য করুন