
জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ইউনুস আলী বলেছেন, রাজনীতি আমাদের কাছে ক্ষমতা বা লুটপাটের মাধ্যম নয়, বরং এটি মানুষের সেবার একটি দায়িত্বশীল প্ল্যাটফর্ম। আমরা মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি কিংবা দুর্নীতির রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নাটোর-২ (নাটোর সদর–নলডাঙ্গা) আসনের নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নের বিলহালতি গ্রাম এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অধ্যাপক ইউনুস আলী বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে—এই লক্ষ্য নিয়েই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ বৈষম্য, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের শিকার। জনগণ এখন একটি সৎ, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব চায়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দমন-পীড়নের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতেই জামায়াতে ইসলামী রাজপথে সক্রিয় রয়েছে বলে জানান তিনি।
পথসভায় বক্তারা বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তারা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন, নাটোর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ডক্টর জিয়াউল হক জিয়া, জামায়াত নেতা জিহাদুল ইসলাম জিহাদ, মাওলানা আবু নওশাদ নোমানীসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক ইউনুস আলীর পক্ষে গণসংযোগ জোরদার করার আহ্বান জানান এবং জনগণের সক্রিয় সমর্থন কামনা করেন। পথসভা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
শেষে অধ্যাপক ইউনুস আলী বলেন, জনগণ যদি তাকে নির্বাচিত করেন, তবে তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার রক্ষায় নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত রাখবেন।
মন্তব্য করুন