নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। গুরুত্বপূর্ণ পদে একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক মুখ স্থান পেতে পারে—এমন গুঞ্জনে সংগঠনের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই কিছু বিতর্কিত ব্যক্তির সক্রিয়তা বাড়তে থাকে। অভিযোগ উঠেছে, অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এমন কয়েকজন এখন ছাত্রদলের ব্যানারে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
এ ঘটনায় তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন মামলা-হামলা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও যারা সংগঠন ধরে রেখেছেন, তাদের মূল্যায়ন না করে ‘সুবিধাবাদীদের’ নেতৃত্বে আনা হলে সংগঠনের আদর্শিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ছাত্রদল নেতা বলেন, “যারা একসময় ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন, এখন তারাই পদ পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। এতে প্রকৃত নেতাকর্মীরা হতাশ।”
তবে ভিন্নমতও রয়েছে। একটি অংশের মতে, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন হলে নতুনভাবে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে, তবে ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন করা যাবে না।
এর আগে ২০২২ সালেও সেনবাগ ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। তখন অভিযোগ ওঠে, বিবাহিত, প্রবাসী এবং বিতর্কিত পরিচয়ের ব্যক্তিদেরও পদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে তখনই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনবাগে বিএনপি ও ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব ও বিভাজন স্থানীয় রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় বা জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন কমিটি ঘোষণা হলে এই বিতর্ক আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
মন্তব্য করুন