
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠে বইছে নতুন হাওয়া। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে টাঙ্গাইলে আগমন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। উত্তরবঙ্গ সফর শেষে ঢাকা ফেরার পথে আজ বিকেলে টাঙ্গাইলের আশেকুর বাইপাস এলাকায় এক বিশাল জনসভায় যোগ দেন তিনি।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে জনসভাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, র্যাব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সকাল থেকেই পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেন। তারেক রহমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা টিমের (সিএসএফ) পাশাপাশি বিএনপির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দলও মোতায়েন ছিল। মহাসড়কের প্রতিটি পয়েন্টে তল্লাশি এবং নজরদারি জোরদার করা হয় যাতে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।
প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রাম থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন হাজার হাজার মানুষ। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গণমাধ্যমকে বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমান টাঙ্গাইলের মাটিতে পা রেখেছেন। তাকে ঘিরে টাঙ্গাইলবাসীর এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র ফিরে পেতে কতটা উদগ্রীব।”
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য ও অর্থনীতি নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন টাঙ্গাইলের বিশ্বখ্যাত তাঁতের শাড়ির ওপর। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে এবং এর রপ্তানি বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। এছাড়া মধুপুরের আনারসসহ স্থানীয় কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করে কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নের রোডম্যাপ ঘোষণা করেন তিনি।
জনসাধারণের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, “বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা।” তিনি জানান, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে। এছাড়া ফসল উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সরকারি ভর্তুকি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
বক্তব্য শেষে তারেক রহমান টাঙ্গাইলকে একটি রপ্তানিমুখী ও সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তার এই সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ সফর টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে আরও চাঙ্গা করে তুলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জনসভা শেষে নেতাকর্মীদের মাঝে যে উদ্দীপনা দেখা গেছে, তা আসন্ন নির্বাচনের আগে বিএনপির জন্য এক ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
মন্তব্য করুন