
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে আদর্শ লিপি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই বর্ণিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। খুদে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় বিদ্যালয় চত্বর এক আনন্দপুরীতে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন কালিহাতী শাহজাহান সিরাজ কলেজের সহকারী অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চা শিশুদের শরীর ও মনকে সতেজ রাখে, যা তাদের ভবিষ্যৎ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অপরিহার্য।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জনপ্রিয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ডিজিল্যাব হসপিটাল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জনাব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এ ধরনের আয়োজনের প্রশংসা করেন।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ৪৮ নং নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজা রহমান, কালিহাতী পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল ওয়াদুদ তৌহিদ এবং মাওলানা ভাসানী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আফজাল হোসেন মোল্যাহ্। আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
আদর্শ লিপি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের সভাপতি ও কালিহাতী শাহজাহান সিরাজ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আশরাফ হোসেন মোল্যাহ্-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কেবল জিপিএ-৫ নয়, বরং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে শৃঙ্খলাবোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়।”
দিনব্যাপী আয়োজনের প্রথম পর্বে ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য দৌড়, দীর্ঘ লাফ, উচ্চ লাফ ও যেমন খুশি তেমন সাজোসহ নানা আকর্ষণীয় ক্রীড়া ইভেন্ট। দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাটক প্রদর্শন করে উপস্থিত দর্শক ও অভিভাবকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিপুল সংখ্যক অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উৎসবমুখর এই আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন