
নড়াইলে বোরো ধান রোপণের ধুম পড়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। বীজতলা, সার ও সেচ—সবকিছুই এখন পর্যাপ্ত থাকায় নির্বিঘ্নে চলছে বোরো ধান রোপণের কাজ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বিগত তিন বছরের রেকর্ড ভেঙে এবার নড়াইল জেলায় বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে। চলতি ২০২৫–২৬ বোরো মওসুমে জেলায় ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪–২৫ মওসুমে ৫০ হাজার ২৮০ হেক্টর এবং ২০২৩–২৪ মওসুমে ৫০ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। অর্থাৎ গত তিন বছরের ব্যবধানে জেলায় ৬৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ বেড়েছে।
কৃষকেরা জানান, মওসুমের শুরুতে শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ধান রোপণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। তবে প্রায় ২০ দিন ধরে রৌদ্রজ্জ্বল ও অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় এখন পুরোদমে বোরো ধান রোপণ করছেন তারা।
সদর উপজেলার চৌগাছা গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম শেখ বলেন, “আমি ১৮০ শতক জমিতে বোরো ধান রোপণ করছি। আপাতত ধানের চারার কোনো সংকট নেই।”
একই গ্রামের আতাউর রহমান জানান, তিনি তিন একর জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছেন। তিনি বলেন, “শীতের শুরুতে কিছুটা সমস্যা হলেও এখন পরিবেশ খুব ভালো। সার, কীটনাশক ও সেচের কোনো সমস্যা নেই।”
৭৫ বছর বয়সী কৃষক বাদশা শেখ বলেন, জমি চাষ করে মই দিয়ে সমতল করে ধান লাগানোর কাজ চলছে। কৃষক মোহাম্মদ মোরাদ জানান, “আগে গরু দিয়ে জমি চাষ হতো, এখন পাওয়ার ট্রিলার ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সময় কম লাগে, খরচও তুলনামূলক কম।”
সদর উপজেলার আরেক কৃষক সাগর শেখ বলেন, তিনি ১৩৫ শতক জমিতে রডমিনিকেট জাতের ধান রোপণ করছেন।
“এই জাতের ফলন ভালো, বাজারদরও ভালো পাওয়া যায়। ভাত খেতে সুস্বাদু, খড়ও মানসম্মত হয়,”—যোগ করেন তিনি।
বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা আরও জানান, বোরো মওসুমের শুরুতে সার, কীটনাশক ও বিদ্যুৎচালিত সেচ ব্যবস্থায় তেমন কোনো সংকট নেই। মওসুমের শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, নড়াইলের উপ-পরিচালক বলেন, “এ বছর জেলায় ২ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ আদর্শ বীজতলা। বীজতলার কোনো সংকট নেই। সার্বিকভাবে বোরো আবাদ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।”
মন্তব্য করুন