
খাগড়াছড়িতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিজিবি) ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জেলার খাগড়াছড়ি-২৯৮ ও ২৯৯ নং সংসদীয় আসনের অংশবিশেষের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকবে খাগড়াছড়ি ৩২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খাগড়াছড়ি ৩২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রশিক্ষণ ছাউনিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আব্দুল মোত্তাকিম। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল মোত্তাকিম জানান, নির্বাচনী পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য সেক্টর সদর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নগুলোতে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে টহল পরিচালনা করবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন, যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি এবং প্রয়োজনীয় গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর লক্ষ্য হলো কোনো মহল যাতে নাশকতা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, “সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। দেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিজিবি সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অর্পিত দায়িত্ব বলিষ্ঠভাবে পালন করবে।”
সেক্টর কমান্ডার জানান, সব প্রার্থী ও ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি তার সর্বোচ্চ সক্ষমতা প্রয়োগ করবে, এবং নির্বাচনকে ঘিরে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ৩২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরান কবিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রতিরোধ করতে মাঠে থাকবে পর্যাপ্ত মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং মনিটরিং সেল। এছাড়া প্রত্যেক ব্যাটালিয়ন নির্দিষ্ট দায়িত্ব ভাগাভাগি অনুযায়ী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করবে।
বিজিবি এই প্রস্তুতির মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকায় শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, প্রতিটি ভোটার ও প্রার্থী নির্বিঘ্নে অংশগ্রহণ করতে পারবেন, এবং নির্বাচনের দিন নির্বাচনকে ঘিরে যে কোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।
মন্তব্য করুন