
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটারদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে এই সভাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে. এম. ওবায়দুল হক। সভায় নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় জানানো হয়, পার্বত্য জেলা হওয়ায় খাগড়াছড়িতে ভৌগোলিক ও যোগাযোগগত কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি, টহল জোরদার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সমন্বয় সভায় নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও অন্যান্য সহায়ক বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিম প্রস্তুত রাখা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিনিধিরা জানান, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে তারা সবাই একযোগে কাজ করবেন। ভোটের দিন ও তার আগের সময়টিতে নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট কার্যক্রম এবং সন্দেহভাজন চলাচলের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়—এমন কোনো গুজব বা অপপ্রচার প্রতিরোধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে. এম. ওবায়দুল হক বলেন, “নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। জনগণের জানমাল রক্ষা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়াই সবার লক্ষ্য। এজন্য মাঠপর্যায়ের প্রতিটি সদস্যকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভা শেষে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন