
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এম এ হান্নান। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৬৯ হাজার ২৫৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম কামরুজ্জামান মামুন (ঘোড়া প্রতীক) পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৬৮ ভোট। ফলে ৩৩ হাজার ৬৮৭ ভোটের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন এম এ হান্নান।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে বিএনপির কোনো প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এম এ হান্নান নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরীন আনুষ্ঠানিকভাবে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮২৭ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৫ হাজার ১৮৬ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৫৩ শতাংশ।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২৩ হাজার ২২৯ ভোট এবং কলার ছড়ি প্রতীকে ১৭ হাজার ১৩৪ ভোট পড়েছে। তবে শুরু থেকেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল ধানের শীষ ও ঘোড়া প্রতীকের মধ্যে।
ইউনিয়নভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়েকটি প্রভাবশালী ইউনিয়নে বড় ব্যবধানেই এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেন এম এ হান্নান। গোকর্ণ ইউনিয়নে ধানের শীষ পেয়েছে ১২ হাজার ৪১৯ ভোট, বিপরীতে ঘোড়া প্রতীক পেয়েছে ২ হাজার ৬১৫ ভোট—ব্যবধান ৯ হাজার ৮০৪। চাতলপাড় ইউনিয়নে ধানের শীষ ১১ হাজার ৪০৯ এবং ঘোড়া ৩ হাজার ১৪৭ ভোট—ব্যবধান ৮ হাজার ২৬২।
এ ছাড়া ভলাকুট ইউনিয়নে ৩ হাজার ৫০২, নাসিরনগর সদর ইউনিয়নে ৩ হাজার ৩৫৭, কুন্ডা ইউনিয়নে ২ হাজার ২৭৩ এবং বুড়িশ্বর ইউনিয়নে ২ হাজার ৪৫ ভোটের লিড ছিল ধানের শীষের পক্ষে। তবে ধনমন্ডল ইউনিয়নে ব্যবধান ছিল মাত্র ৯০ ভোট এবং হরিপুর ইউনিয়নে ৬৬৯ ভোট। ফান্দাউক ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতীক ৩ হাজার ৭৬০ ভোটে এগিয়ে থাকলেও সামগ্রিক ফলাফলে তা প্রভাব ফেলতে পারেনি।
নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপর উপস্থিতি এবং প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে ভোটগ্রহণ ও গণনা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
ফলাফল ঘোষণার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে এবং ভবিষ্যতে স্থানীয় রাজনীতির গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্য করুন