
যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফলে পাঁচটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা এবং একটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী বিজয় অর্জন করেছেন। জামায়াত প্রার্থীরা ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে এবং বিএনপি প্রার্থী ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ফলাফল অনুযায়ী, যশোর-১ (শার্শা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান ১,১৯,০৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে তার পোস্টাল ভোট ১,৭১৬টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ৯৩,৫৪২ ভোট; যার মধ্যে পোস্টাল ভোট ৫৪৭টি।
যশোর-২ আসনে জামায়াতের ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ ১,৭১,৯৯১ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার প্রাপ্ত পোস্টাল ভোট ৩,৪৯৩টি। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানা পেয়েছেন ১,৪৬,৩২২ ভোট, যার মধ্যে পোস্টাল ভোট ১,৩৯১টি।
যশোর-৩ (সদর) আসনে একমাত্র বিএনপি প্রার্থী হিসেবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ২,০১,৩৩৯ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার পোস্টাল ভোট ১,৬৯২টি। এ আসনে জামায়াতের আব্দুল কাদের ১,৮৭,৪৬৩ ভোট পেয়েছেন; যার মধ্যে পোস্টাল ভোট ৩,০০৪টি।
যশোর-৪ আসনে জামায়াতের গোলাম রছুল ১,৭৭,৫৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার পোস্টাল ভোট ২,২৯১টি। বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজী পেয়েছেন ১,২৮,১৭২ ভোট; পোস্টাল ভোট ৮৬৮টি।
যশোর-৫ আসনে জামায়াতের গাজী এনামুল হক ১,৩২,৮৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার পোস্টাল ভোট ২,২৮০টি। এ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদ ইকবাল (কলস প্রতীক) পেয়েছেন ৮৫,৫১৭ ভোট; পোস্টাল ভোট ৭৬৯টি। অপরদিকে বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রার্থী রশিদ আহমদ পেয়েছেন ৫৫,৪১৯ ভোট, যার মধ্যে পোস্টাল ভোট ৪৬০টি।
যশোর-৬ আসনে জামায়াতের মুক্তার আলী ৯২,২৫৩ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার পোস্টাল ভোট ১,২১৬টি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ পেয়েছেন ৭৯,৯৭৯ ভোট; পোস্টাল ভোট ৮২০টি।
এছাড়া ছয়টি আসনে অনুষ্ঠিত গণভোটেও উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া গেছে। মোট ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১৩,৬৪২টি এবং ‘না’ ভোট ২,৫৫৬টি।
সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, যশোরের রাজনৈতিক মানচিত্রে এবারের নির্বাচনে জামায়াত সুস্পষ্ট প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে সদর আসনে বিএনপির বিজয় দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় নির্বাচন ঘিরে জনমনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে।
মন্তব্য করুন